ভারতের টেক্সটাইল বর্জ্য সমস্যা নিয়ে মোদীর সতর্কবার্তা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ জাতির উদ্দেশে ভাষণে টেক্সটাইল বর্জ্য এবং ফাস্ট ফ্যাশনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই এই…

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ জাতির উদ্দেশে ভাষণে টেক্সটাইল বর্জ্য এবং ফাস্ট ফ্যাশনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ান। এবার তিনি টেক্সটাইল বর্জ্যকে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, পুরোনো জামাকাপড় দ্রুত ফেলে দেওয়া এবং নতুন কেনার প্রবণতা সারা বিশ্বে বাড়ছে।

“আপনারা কি কখনও ভেবে দেখেছেন, যে পুরোনো জামাকাপড় আপনারা আর পরেন না, তার কী হয়? এগুলো টেক্সটাইল বর্জ্যে পরিণত হয়,” বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বব্যাপী এই সমস্যা মোকাবিলায় চলমান গবেষণার কথাও উল্লেখ করেন। কিছু গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, টেক্সটাইল বর্জ্যের মাত্র এক শতাংশেরও কম নতুন জামাকাপড়ে পুনর্ব্যবহৃত হয়। “ভারত বিশ্বের তৃতীয় দেশ যেখানে সবচেয়ে বেশি টেক্সটাইল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মানে আমাদের সামনেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে,” তিনি যোগ করেন।

তবে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতে চলমান প্রশংসনীয় প্রচেষ্টায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ভারতের অনেক স্টার্ট-আপ টেক্সটাইল পুনরুদ্ধার সুবিধার উপর কাজ শুরু করেছে। “এমন অনেক দল রয়েছে যারা আমাদের র‍্যাগপিকার ভাই-বোনদের ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছে। অনেক তরুণ বন্ধু টেকসই ফ্যাশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তারা পুরোনো জামাকাপড় এবং জুতো পুনর্ব্যবহার করে অভাবীদের মধ্যে বিতরণ করছেন। টেক্সটাইল বর্জ্য থেকে সাজসজ্জার জিনিস, হ্যান্ডব্যাগ, স্টেশনারি এবং খেলনা তৈরি হচ্ছে,” বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, অনেক সংস্থা এখন সার্কুলার ফ্যাশন ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়াতে কাজ করছে। নতুন কাপড় ভাড়ার প্ল্যাটফর্মও গড়ে উঠছে, যেখানে ডিজাইনার পোশাক ভাড়ায় পাওয়া যায়। তিনি ভারতের শহরগুলির মধ্যে পানিপথ, বেঙ্গালুরু এবং তিরুপুরের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। “হরিয়ানার পানিপথ টেক্সটাইল পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। বেঙ্গালুরু উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সমাধানের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করছে। এখানে টেক্সটাইল বর্জ্যের অর্ধেকেরও বেশি সংগ্রহ করা হয়, যা আমাদের অন্য শহরগুলির জন্য উদাহরণ। একইভাবে, তামিলনাড়ুর তিরুপুর বর্জ্য জল পরিশোধন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির মাধ্যমে টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত,” তিনি যোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এই প্রচেষ্টাগুলি কেবল পরিবেশ রক্ষাই করছে না, বরং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য সুযোগও তৈরি করছে। তিনি জনগণকে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। “আমাদের পুরোনো জামাকাপড় ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভাবা উচিত, এগুলো কীভাবে পুনর্ব্যবহার করা যায়। এতে পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সমাজও উপকৃত হবে,” তিনি বলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফাস্ট ফ্যাশনের এই প্রবণতা কেবল বর্জ্যই বাড়াচ্ছে না, বরং সম্পদের অপচয়ও করছে। “আমাদের ঐতিহ্যে পুরোনো জিনিসকে নতুনভাবে ব্যবহার করার একটি সংস্কৃতি রয়েছে। এই চেতনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে,” তিনি জোর দিয়ে বলেন। পানিপথে যেমন পুরোনো কাপড় থেকে নতুন পণ্য তৈরি হচ্ছে, তেমনই বেঙ্গালুরুতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তিরুপুরে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি ভারতের টেকসই ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে তরুণদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। “আমাদের তরুণরা টেকসই ফ্যাশনের জন্য নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসছে। তারা পরিবেশের কথা ভাবছে এবং সমাজের দরিদ্রতম মানুষদের জন্য কাজ করছে,” তিনি বলেন। তিনি জনগণকে এই ধরনের উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন এবং বলেন, “একটি ছোট পদক্ষেপও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।”

‘মন কি বাত’-এর এই পর্বে প্রধানমন্ত্রী টেক্সটাইল বর্জ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের ইতিবাচক প্রচেষ্টাগুলিকে তুলে ধরেছেন। পানিপথ, বেঙ্গালুরু এবং তিরুপুরের মতো শহরগুলি প্রমাণ করছে যে, টেকসই সমাধানের মাধ্যমে ভারত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদাহরণ অন্য শহরগুলিও অনুসরণ করবে এবং জনগণ এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশ নেবে।